ব্রেকিং নিউজ
অন- লাইন ডেক্স
২১ মে ২০২৬, ৫:২২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বড় বোনের পিছে পিছে বের হওয়াই কা’ল হলো রামিসার

পল্লবীতে ভাড়া বাসায় বাবা, মা ও বড় বোনের সঙ্গে বসবাস করতো সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করা শিশুটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। বড় বোনের পিছে পিছে বাসা থেকে বের হওয়াই কাল হলো শিশুটির।

সামনের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া তাকে জোর করে তুলে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে প্রমাণ লোপাট করতে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসা আক্তার পার্শ্ববর্তী চাচার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। এসময় ছোট বোন রামিসা পেছন না ছাড়ায় তাকে বাসায় রেখে লুকিয়ে বের হয় রাইসা। তবে সেটা বুঝতে পেরে বড় বোনের পিছু নিতে দরজা খুলে বের হয় রামিসা।

ঠিক তখনই সামনের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে জোর করে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর তার ওপর চলে পাশবিক নির্যাতন।

রামিসার পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোট বোনকে এড়িয়ে চাচার বাসায় যাচ্ছিল নবম শ্রেণি পড়ুয়া বড় বোন রাইসা। কিন্তু রামিসা পেছন পেছন বের হয়ে আসায় ফিরে গিয়ে তাকে রুমে রেখে আবারও বের হয়ে যায় সে। তবে টের পেয়ে রামিসাও বড় বোনের পেছন পেছন বের হয়ে যায়।

পরে চাচার বাসা থেকে রাইসা ফিরে আসার পর পরিবারের সবাই বুঝতে পারে রামিসা চাচার বাসায় যায়নি। এরপর তারা রামিসার খোঁজ শুরু করেন। একে একে ওই ভবনের সব ফ্ল্যাটে খোঁজ করা হলেও সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬) তাদের ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি

আজ গতকাল পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন ওই ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির প্রধান ফটকে ব্যানার ঝুলছে। রামিসা হত্যাকারীদের জনসম্মুখে ফাঁসির দাবি রয়েছে ব্যানারে। ভবনের নিচে ভিড় করেছেন স্থানীয়রা। রামিসা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

কথা হয় ভুক্তভোগী শিশুটির বড় বোন রাইসার সঙ্গে,কথা হয় নিউজডিবিএন, রাস্তার ওই পাশেই আমার চাচার বাসা। আমি চাচার বাসায় যাচ্ছিলাম। বোন আমার সঙ্গে বের হতে চাইছিল। আমি বলেছি ঘরে যাও। এরপর আমি ওকে রুমে রেখে বের হয়ে যাই। এরপর সে আমার পিছে পিছে বের হয়ে আসলেও আমি লক্ষ্য করিনি। তখনই দরজার বাইরে থেকে লোকট ওকে টান দিয়ে নিয়ে গেছে। ও চিৎকার করেছিল, আম্মু শব্দ শুনেছেন।

রামিসার মা পারভিন আক্তার নিউজডিবিএনকে বলেন, আমার মেয়েই যে চিৎকার দিচ্ছিল সেটা বুঝতে পারিনি। আমি মনে করেছি ওর সঙ্গে (বড় বোন রাইসার) গেছে। এরপর দেখি ও (বড় মেয়ে) একা আসছে। তখনই আমি বুঝতে পেরেছি, খোঁজ শুরু করেছি। দরজা ধাক্কাইছি। সব ফ্ল্যাটের দরজা খুলছে, কিন্তু এই ঘরের দরজা খোলেনি।

তিনি বলেন, কোনোদিন ওদের (সোহেল রানা) সঙ্গে আমাদের একটা কথাও হয়নি। ওরা ভাড়া আসছে কয়েক মাস, একটা কথাও কোনোদিন হয়নি।

হত্যার পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে কি না জানতে চাইলে পারভিন আক্তার বলেন,

কারণ কিছুই না, লালসা। আমার মেয়ে মাত্র দরজা খুলছে। একটা জুতা পরা, আর একটা জুতা পরতেও পারেনি।
টান দিয়ে নিয়ে গেছে। একটা জুতা পড়ে থাকা দেখেই সন্দেহ হয়।

তখনই এই দরজায় ধাক্কা দেই। পরে সব লোকজন এসে দরজা ভেঙেছে। পেছনের বাড়ির লোকজন তাকে ওই দিক দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেছে।

ওই ভবনের মালিক দেশের বাইরে থাকেন। তার অবর্তমানে কেয়ারটেকার বাসা দেখাশোনা করেন। জানা গেছে, রামিসা হত্যায় অভিযুক্ত সোহেল রানা রিকশার গ্যারেজের মিস্ত্রি ছিলেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাকে পাওয়া না গেলেও তার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সেখানে তিনি বলেন, বিচার আপনারা করতে পারবেন না। আপনাদের এ ধরনের কোনো রেকর্ড নেই। আপনারা পারবেন না। আমার মেয়েও ফিরে আসবে না। আপনারা বিচার করতে পারবেন? পারবেন না। আপনারা বিচারের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবেন? পারবেন না। আমার থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত নেবেন? এইটা বড়জোর ১৫ দিন। এরপর আবার কোনো একটা ঘটনা ঘটবে। এটা তলে চলে যাবে। শেষ! শেষ এটা। আমি দেখছি, আমার বয়স ৫৫। কোনো বিচার হবে না।

অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আজ বুধবার রাজধানীর পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির বাজে ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।
রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে বাসার সামনে ভিড় করেন স্থানীয়রা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩৫ জেলায় নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযানে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু

২

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসির গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

৩

সত্যি কী মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ!

৪

জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

৫

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাক্ষাৎ

৬

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

৭

কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে পরিনত করতে হবে: পর্যটন মন্ত্রী

৮

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

৯

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

১০

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

১১

স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

১২

ছাত্রদল নেতা রুমির সহায়তায় সুস্থ হলেন জবি শিক্ষার্থী নীল

১৩

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ আনা হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

১৪

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

১৫

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ

১৬

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজেরই সম্পদ, তাদের জীবন মানউন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে -সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত

১৮

ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

১৯

জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

২০