ব্রেকিং নিউজ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক
৯ জুলাই ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি, বিলাস নাকি ঐতিহ্য

বাংলার আকাশে মেঘ জমলে কিংবা টিপটিপ বা ঝুম বৃষ্টি নামলেই অনেকের মনে যে খাবারের কথা সবার আগে আসে, তা হলো খিচুড়ি। গরম ভাত, ডাল, সবজি আর মসলার মিশেলে তৈরি এই সহজ খাবারটি যেন বৃষ্টির দিনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়া কি শুধুই বিলাসিতা, নাকি এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ?

খিচুড়ির ইতিহাস

ঐতিহ্যের শিকড় খিচুড়ির ইতিহাস বহু প্রাচীন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি একটি জনপ্রিয় খাবার।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে ‘খিচড়া’ বা ‘খিচুড়ি’ ছিল সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। মুঘল আমলেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়। সম্রাটদের দরবারে ভিন্ন ভিন্ন রূপে খিচুড়ি পরিবেশন করা হতো। বাংলার প্রেক্ষাপটে খিচুড়ি বিশেষভাবে যুক্ত বর্ষা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে ‘ভোগের খিচুড়ি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এই খিচুড়ি শুধুমাত্র খাবার নয়, এটি ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের প্রতীক।

বৃষ্টির দিনের সঙ্গে সম্পর্ক

বাংলাদেশ বিশেষ করে বাংলার গ্রামীণ জীবনে বর্ষাকাল মানেই ভিন্ন এক জীবনযাপন। একসময় কাঁচা রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা এবং সীমিত খাদ্যসংগ্রহের কারণে সহজে রান্না করা যায় এমন খাবারের প্রয়োজন হতো। খিচুড়ি সেই প্রয়োজন মেটাতো। কারণ এক হাঁড়িতেই চাল, ডাল, সবজি দিয়ে সহজে রান্না করা যেতো এবং এটি ছিল পুষ্টিকর। বৃষ্টির দিনে বাইরে যাওয়া কষ্টকর হওয়ায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে গরম খিচুড়ি খাওয়ার একটি সামাজিক রীতি তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

বিলাসের ধারণা কোথায়

বর্তমান শহুরে জীবনে খিচুড়ি অনেক সময় ‘কমফোর্ট ফুড’ বা আরামদায়ক খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে ইলিশ মাছ ভাজা, গরুর মাংস বা বিভিন্ন ভর্তার সঙ্গে খিচুড়ি পরিবেশন করলে তা অনেকের কাছে বিলাসী খাবার বলে মনে হতে পারে। রেস্টুরেন্টগুলোতেও এখন নানা ধরনের খিচুড়ি পাওয়া যায়, যা এই খাবারটিকে একধরনের আধুনিক বিলাসিতার রূপ দিয়েছে।

দেখা যায়, বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়া মূলত একটি ঐতিহ্য, যার শিকড় রয়েছে ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সামাজিক সংস্কৃতিতে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর উপস্থাপন ও উপকরণে এসেছে বৈচিত্র্য, যা এটিকে আংশিকভাবে বিলাসিতার পর্যায়েও নিয়ে গেছে।

সুতরাং, বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়া একদিকে যেমন বাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, অন্যদিকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে এটি কিছুটা বিলাসের ছোঁয়াও পেয়েছে। তবে মূল সত্তায় এটি এখনও মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার।

 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি বিষয়ক প্রকাশনা ‘The History of Khichdi’ – Cultural India (অনলাইন নিবন্ধ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের খাদ্যসংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩৫ জেলায় নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযানে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু

২

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসির গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

৩

সত্যি কী মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ!

৪

জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

৫

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাক্ষাৎ

৬

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

৭

কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে পরিনত করতে হবে: পর্যটন মন্ত্রী

৮

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

৯

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

১০

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

১১

স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

১২

ছাত্রদল নেতা রুমির সহায়তায় সুস্থ হলেন জবি শিক্ষার্থী নীল

১৩

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ আনা হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

১৪

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

১৫

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ

১৬

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজেরই সম্পদ, তাদের জীবন মানউন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে -সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত

১৮

ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

১৯

জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

২০