ব্রেকিং নিউজ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক
২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীতে গ্যাস সংকট চরমে

রাজধানীতে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট এবার চরম আকার ধারণ করেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও পরিবহন সব খাতেই দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের পর দিন রান্নার চুলা জ্বলছে না। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আয়-রোজগার কমে বিপাকে পড়েছেন হাজারো সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক।

গতকাল রাজধানীর মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে ব্যক্তিগত গাড়ি, কোথাও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অনেক স্টেশনে গ্যাসের চাপ এত কম যে স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। অনেক চালক আগের রাত থেকে লাইনে অবস্থান করলেও গ্যাস পাননি।

মেরুল বাড্ডার একটি সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন চালক বলেন, আগের দিন সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। রাতেও পাননি, সকালে আবার লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু কখন গ্যাস মিলবে, সে নিশ্চয়তা নেই। একজন অটোরিকশাচালক বলেন, গাড়ি চালাতে না পারলে মালিকের জমা দেব কীভাবে? সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিএনজি স্টেশন পরিচালনাকারীরাও বলছেন, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করতে পারছেন না। অনেক স্টেশনে সারা দিনে একবারও গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রী পরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং রাইড-শেয়ারিং সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

একই চিত্র রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোতেও। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, শ্যামলী, মিরপুর ও বাড্ডার অনেক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও গভীর রাতে সামান্য গ্যাস এলেও চাপ এত কম যে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে। তবে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে না পেরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে দিনের বেলায় একেবারেই গ্যাস থাকছে না। অনেক পরিবার হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছে। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে নতুন করে ইলেকট্রিক চুলা কিনছেন।

সংকটের প্রতিবাদে গতকাল মোহাম্মদপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্যাস ছাড়া বিল আদায় বন্ধ এবং তিতাসের সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ত্রুটি মেরামতে কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৬৫০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির পর সরবরাহ কমে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি খাতে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

এদিকে গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোয় প্রয়োজনীয় চাপের গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানি কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি হলেও এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গ্যাস ঘাটতি ও আমদানিনির্ভরতা। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে টার্মিনালে যে কোনো কারিগরি সমস্যা পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তাই সংকটের স্থায়ী সমাধানে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩৫ জেলায় নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযানে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

১

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু

২

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসির গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার প্রস্তাব

৩

সত্যি কী মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ!

৪

জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

৫

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাক্ষাৎ

৬

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

৭

কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে পরিনত করতে হবে: পর্যটন মন্ত্রী

৮

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

৯

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

১০

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

১১

স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

১২

ছাত্রদল নেতা রুমির সহায়তায় সুস্থ হলেন জবি শিক্ষার্থী নীল

১৩

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ আনা হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

১৪

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

১৫

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ

১৬

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজেরই সম্পদ, তাদের জীবন মানউন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে -সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত

১৮

ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

১৯

জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

২০