• ঢাকা শনিবার, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গর্বের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা! 

আন্তর্জাতিক
|  ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:১৮ | আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:১৮

মোঃ ফেরদাউছ সিকদারঃ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতার পর থেকেই ফিল্ড ভিত্তিক নিজস্ব আওতায় গ্রামে গ্রামে অসহায় দরিদ্র মানুষের স্বাস্থসেবা দিয়ে আসছেন। সুধু তাইনা প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন পেশাদার মানুষের জন্য তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্য বীমার আওতায় স্বল্প মূল্যে সবা প্রদান করে আসছেন।

একজন স্বাস্থ্য কর্মী এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠেন। ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে তার কর্মস্থান অথবা আবাসিকের মধ্যে ১ঘন্টা কৃষি কাজ (পরিষ্কার পরিছন্নতা) করেন। পরে ৭টার সময় তার বসবাসের স্থানে গিয়ে গোসল করেন এবং সকালের খাবার খেয়ে ৮.৪০ এর মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছিয়ে যে যার কাজে যোগদান করেন।

এর মধ্যে কিছু স্বাস্থ্য কর্মী আছেন যারা সকাল ৯টার মধ্যেই গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে ফিল্ডের উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

যে যার গ্রামের আওতানুযায়ী প্রতিটি ঘরে ঘরে ভিজিট করেন। গর্ভবতী মায়েদের চেক-আপ করেন। তারা ঠিকমতন সচেতনতার সাথে চলছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করেন।

গ্রামের মধ্যে আদম সুমারীর মতন জন্ম মৃত্যু ও প্রসূতি মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্ট তৈরি করেন। তার মধ্যে সরকারি ভেকসিনও দেন তারা। গ্রামের বয়স্ক সেবা। বয়স্কদের হাত পায়ের নখ পর্যন্ত কেটে দেন তারা।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুপুরের খাবার সময় ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ১ঘন্টা সময়। কিন্তু গ্রামে যেসকল স্বাস্থ্য কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত থাকেন তারা কাজ শেষ করে হাসপাতালে আসতে আসতে ৩টা বাজে। গ্রামের ব্যাগ রেখে ক্লান্তি অবস্থায় হাতে মুখে পানি দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিশ্রামে থাকেন।

আবার ঘড়ির কাটায় যখন বিকাল ৫টা বাজে তখন সাথে সাথে তারা হাসপাতালে ডিউটিতে চলে আসেন। তার মধ্যে ভাগ ভাগ করে সবাই ডিউটি করেন।

হাসপাতালে সকাল থেকে যারা ডিউটি করেন তারা আবার বিকালে বিশ্রামে চলে যায়। পরে সন্ধা হওয়ার সাথে সাথেই সবাই নিজেদের অফিস কক্ষে গিয়ে সন্ধাকালীন সভায় উপস্থিত হয়।

সভা শেষে যের যার রিপোর্ট নিয়ে বসেন। কেউ কেউ গ্রামের তথ্য সংগ্রহ করা দিয়ে রিপোর্ট করতে থাকেন। কেউ হাসপাতালের রোগীর হিসাব, ঔষধের হিসাব, এমনকি রোগ অনুযায়ী রোগ ভিত্তিক রোগীর হিসাব করতে করতে তাদের রাত ৯টা বেজে যায় কখন তা তারা নিজেরাই বলতে পারেননা।

পরে সবার ডিউটি ভাগ করে দেওয়া হয়। রাতে কার ডিউটি, গ্রামে কে যাবেন, সরকারি ভেকসিন কে দিতে যাবেন, হাসপাতালে কে কে কোন বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন।

ডাক্তারদের কথাতো বাদ দিলাম। তবুও শুধু এতটুকোই বলি আমাদের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তাররা অন্য কোন হাসপাতালের মতন ডিউটি করেননা।

তারা সকাল ৯টায় হাসপাতালে আসেন। দুপুর ২টায় দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ৩টার মধ্যে হাসপাতালে চলে আসেন। রোগী যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সেবা প্রদান করেন। পরে হাসপাতালে ২জন এমবিবিএস গাইনী এবং মেডিসিন মেডিকেল অফিসার ডিউটি করেন। আপনারাই বলুন তাদের পারিবারিক ও নিজস্ব স্বাধীনতা কতটুকু পায়?

অন্যদিকে বিশেষ কিছু তাদের কাজঃ

* গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্যোগে সকল গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন সময়ের সচেতনতা বিষয়ক উঠান বৈঠক।

* গার্মেন্টস কর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান ও তাদের ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান।

* স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান।

* জন্ম ও মৃত্যুর বিয়ষে বিভিন্ন সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান।

* শিশু জন্ম হওয়ার পরে শিশুদের টিকা এবং স্বাস্থ্য সম্মতভাবে লালন পালন করার বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান।

* এছাড়াও তারা গার্মেন্টস কর্মীদের স্বাস্থ্য বীমার আওতায় স্বল্প খরচে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন। যা অন্যকোন হাসপাতাল এমন বিশেষ সেবাগুলো প্রদান করেনা।

এছাড়াও বর্তমানে আমাদের সমাজের শতকরা ৫% লোক বিভিন্ন মানসিক রোগে ভুগছেন। এর কথা চিন্তা করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ২৪ ঘন্টাই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সহ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট নিয়োগও করেছে। যার দ্বারা সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশে যুদ্ধ চলাকালীন চলা অবস্থায় শুধু মাত্র এই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রই এই সেবাগুলো প্রদান করে আসছেন। যে সেবাগুলো বর্তমানেও চলমান রয়েছে।

সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা একটা পরিবার হয়ে নিজ দায়িত্বে দায়িত্ব পালন করেন। শুভ কামনা রইলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আগামীর পথ চলার।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়