• ঢাকা শনিবার, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ্য চুমুর ঘোষণা!

আন্তর্জাতিক
|  ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৩:৩১ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৩:৩১

অনলাইন ডেক্সঃ ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘প্রকাশ্য চুমু’ খাওয়ার সমর্থনে ফেসবুকে খোলা একটি ইভেন্ট নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। প্রিয়জনকে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্য এদিন পুলিশি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন ওই ইভেন্টের হোস্ট অনন্য আজাদ এবং শাম্মী হক। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। একপক্ষের দাবি এটি ‘স্বাধীনতা’, অন্যপক্ষের মন্তব্য এটা জাতিকে অপসংস্কৃতির দিকে উসকে দেওয়ার নামান্তর।

জার্মানিতে অবস্থানরত ওই দুই প্রবাসী ‘ব্লগার’ সম্প্রতি ‘ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাব’ নামে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলেছেন; যাকে যৌনতা ছাড়ানো কিংবা অপসংস্কৃতির এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন দেশের প্রথিতযশা সংস্কৃতকর্মী ফকির আলমগীর। এছাড়া পক্ষে বিপক্ষে নানা মন্তব্য উঠে এসেছে ওই ইভেন্টের সঙ্গে লিংক থাকা বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর পোস্টেও।

অনন্য আজাদ এবং শাম্মী হকের আহ্বান করা ওই ইভেন্টটিতে লেখা হয়, ‘ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে নাকি কড়া পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতে নাকি প্রকাশ্যে চুমু খেলে পুলিশ গ্রেফতারও করবে। প্রতিবছরই এই দিনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পুলিশ বিভিন্ন রকম হয়রানি করে। ধানমণ্ডি লেকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাত ধরে হাঁটাও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। এর প্রতিবাদে সকল জুটিকে স্ব স্ব প্রেমিক প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে চুমু খাবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

এই আহ্বানের কারণে শাম্মী হককে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে বিদেশি এক সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, তার ওই ইভেন্ট নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

সরকার মোহাম্মদ জারিফ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার আন্দোলনে আমি নাই। প্রতিবাদের ভাষার আগে চুমুকে মাংস পেরিয়ে প্রেমের ভাষা হতে হয়। সেটা আমাদের এখানে হয় নাই। এটা তাই একটা হুজুর ক্ষেপানো সুডোবিপ্লবী কাজ হবে শুধু।’

তিনি বলেন, ‘প্রেমিক জুটিদের শারীরিক চাহিদার বয়ান বিদেশি কালচার মুখস্থ করা… প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার মতো পরিস্থিতি আসতে আরো অনেকগুলা ধাপ মাঝখানে বাকি রয়ে গেছে। …এই ধরণের মুখস্থ লিবারেল জাম্প দিয়ে খুব বেশি এগোনো যাবে না।’

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার একান্ত একটা শখ আছে, খুব কাছের মানুষ ছাড়া কেউ জানেনা। সেটা হলো চুমুর ছবি সংগ্রহ করা। ব্যক্তিগত একটা অ্যালবাম আছে, যেটার নাম কিস। সেখানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তের ছবি হলো এটা! কেননা এখানে শুধু ভালোবাসা নয়, প্রতিবাদের ভাষাও চুমু!’

সময়ের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ইভেন্ট খোলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব ফকির আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ছোট করে বললে এমন পেজ খুলে তারা যৌনতার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে।’

এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখা করার অবকাশ আছে বলে মনে করেন ফকির আলমগীর। তিনি বলেন, ‘খুঁজে দেখেলে দেখা যাবে তাদের একটি টার্গেট অডিয়েন্স আছে। মূলত: যুবক শ্রেণিকে ভ্রান্ত পথে নিতে চায় তারা। নষ্ট করতে চায় সমাজ। দেশের স্বকীয়তা, সংস্কৃতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চায়।’

এর বিপরীতে ফকির আলমগীর বলেছেন, ‘প্রকাশ্যে চুমুর খাওয়ার বিষয়কে যে কোনোভাবে রূখতে হবে। এসব উসকানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।’

ইকারাম উদ্দিন আবির নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই ইভেন্ট সম্পর্কে লিখেছেন, ‘‘এক দল ইভেন্ট খুলে ‘ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ্যে চুমু খাব’… আরেক দল ইভেন্ট খুলে ‘ভালোবাসা দিবসে চুম্মাচাট্টি করতে দেখলেই ধোলাই’… ব্যাপারটা মোটেই ফাইজলামি না! যারা ইভেন্ট খুলেছে তারা সবাই খুব সিরিয়াস! কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে এগুলার মানে কী? এ রকম ফালতু একটা বিষয় নিয়ে এতো মাতামাতি ক্যান? আজিব চিড়িয়া তো ’’

ভালোবাসা আসলে চুমুতে সীমাবদ্ধ নেই বলে মনে করেন মাসুদ রানা নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী। তিনি লিখেছেন, ‘কয়েকদিন আগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে এক ভিনদেশি কাপলকে দেখলাম চুম্বনরত অবস্থায়, দেখে ভালোই লাগলো। শেষবার যখন ঢাকায় যাই বিকেলে বন্ধুসহ গেলাম ধানমণ্ডি লেকে, সেখানেও চুম্বনরত এক কাপলকে দেখলাম… কাপলের মাঝে ভালোবাসা ছিল, আর পরে চুম্বনরত কাপলের মাঝে ভালোবাসা ছিলনা, ছিল যৌনতা, ছিল দুজনের চোখে শিকারের নেশা।’
লিনা সরকার নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এই ইভেন্টে শতশত পোস্টদাতা প্রেম আর সেক্সকে গুলিয়ে ফেলছে। তাদের মতে, বিয়ের পরই প্রেম হয়। সেটা বৈধ প্রেম। বিয়ের আগে চুমু খাওয়া হারাম। সেক্স তাদের কাছে ট্যাবু। অথচ সারা রাত পর্ন দেখে/চটি পড়ে তাদের লিঙ্গোন্থান করতে হয়। পর্ন না দেখলে জীবন চলে না। এদের কাছে সেক্স অপবিত্র বিষয় ছাড়া কি হবে?…’

চুমু খাইতে পুলিশি পাহারা দরকার নেই বলে মনে করেন তানভীর ওয়াহিদ। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকাল তো অনেক প্রেমিক-প্রেমিকাই প্রকাশ্যে চুমু খায়। চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন এমনকি চিড়িয়াখানাতেও হরহামেশা চুম্মাচুম্মি হচ্ছে। তাহলে প্রকাশ্যে চুমুর জন্য ইভেন্ট খুলতে হবে কেন? মেইন কথা হলো, যতই প্রতিবাদী বুলি চাবানো হোক, ইভেন্ট খোলার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, চুমু খাওয়ার একটা সামাজিক লাইসেন্স পাওয়া।’

তিনি আরো বলেন, ‘যত যাই বলুন, প্রেমিক-প্রেমিকার ঠোঁটের ব্যারিকেড হচ্ছে, যৌন মিলনের প্রথম স্টেপ। আর মানুষের স্বভাবই হচ্ছে, বসতে দিলে শুতে চাওয়া। আজ যদি প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার সামাজিক লাইসেন্স দেওয়া হয়, কাল অবশ্যই প্রকাশ্যে যৌন মিলনের দাবি উঠবে।…’

জয় শার্মা নামের এক ফেসবুক ব্যবহাকারী লিখেছেন, ‘চুমু খান, সুস্থ থাকুন। ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার প্রতিবাদী পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। ধিক্কার আওয়ামী লীগ দুবাইয়ের সাধারণ সম্পাদকে যিনি এই ইভেন্টের অন্য একজন হোস্ট ‘শাম্মি হক’কে পরোক্ষভাবে ধর্ষণের ইচ্ছা পোষণ করেন। জাতির জনকের হাতে গড়া মহৎ এই দল ভরে গেছে কিছু নির্লজ্জ্ব-কাপুরুষদের ভীড়ে।’

মুহাম্মদ ছামিউল আলীম লিখেছেন, ‘যেই দেশের অনেক মানুষ এখন তিনবেলা পেটভরে খাইতে পারে না সেই দেশে আন্দোলন হয় চুমু খাওয়া নিয়ে!…’

ইমতিয়াজ খন্দকার ইমতু লিখেছেন, ‘‘পুরো জাতি এখন ‘ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাব’ নামক ইভেন্ট নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত! জার্মানিতে বইসা মহা-মুক্তমনা, সুশীল হোস্টগুলার উদ্দেশ্যই ছিল হুর বাঙালী জাতিকে উস্কাই দিয়া মজা লুটা। আর …সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া!…তোদের জন্য সমবেদনা!’’

মাজহারুল ইসরাম সিয়াম লিখেছেন, ‘হুম প্রেমিকাকে চুমু খাওয়ার তাড়না একটি সহজাত ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে জনবহুল স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে একেবারে সবার সামনেই চুমু দিতে হবে এই ধরনের মানসিকতা ঐ সব অপবিত্র প্রেমেই মানায়, ভালবাসা বেঁচে থাকুক শ্বাশত বাঙ্গালীর লাজুকতার মাঝে, ভালবাসা বেঁচে থাকুক চির অম্লান প্রেমিকার চাহনিতে, যৌন কামনায় উন্মুক্ত স্থানে নয়।’

অর্ণব’ দেব নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘করবো প্রকাশ্যে চুমু। গালে প্রেয়সীর লিপস্টিক মাখা ঠোঁটের আলতো দাগ, ছাপ নিয়ে ঘুরবো গোটা শহর, নগর, বন্দর। তোমার চুমুতে হোক প্রেয়সী.. আমার বিশ্বজয়। রুখবো বাধা, ভাঙবো শেকল, ভুলে সকল ভয়।’

ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় ‘প্রকাশ্যে চুমু খাব’ পেজে অজস্র মন্তব্য এবং হোস্ট দু’জনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের জবাব দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ মন্তব্যই অশ্লীল। সেখানে শাম্মি হক আর অনন্য আজাদকে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস। ২৬৯ সাল ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচারের অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাকে বন্দি করেন। কারণ, তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান কর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দি অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। তারপর থেক ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন।

সুত্র : প্রিয়.কম

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়